Reading Time: 2 minutes

অশ্বিনী এস কানাড়ে, রেজিস্টার্ড ডায়েটিশান এবং প্রত্যয়িত ও বিশিষ্ট ডায়াবেটিস শিক্ষাবিদ তাঁর 17 বছরের অভিজ্ঞতা সহ এটির বিশেষজ্ঞপর্যালোচনা করেছেন।

আপনি যা ভাবতে পারেন তার থেকে আলাদা তো বটেই, ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্কিত জটিলতাগুলি সহজে এড়ানো যায়, বিশেষত যখন আপনি নিয়মিত মেডিকেল পরীক্ষাগুলি করেন এবং আপনার শরীরের মধ্যে কী ঘটছে তা জানেন। এই পরীক্ষাগুলি যে শুধুমাত্র আপনার ডায়াবেটিস সম্পর্কিত জটিলতাগুলি প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে তাই নয়, তবে এটি আপনাকে ডায়াবেটিসের সাথে ট্র্যাকে থাকতে এবং সুস্থ জীবনযাপন করতেও সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস-সম্পর্কিত জটিলতার আটটি প্রাথমিক লক্ষণগুলি পড়ুন যা আপনি খেয়াল নাও করতে পারেন।

BLK সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ মেডিসিনের কনসালট্যান্ট, ডঃ জীবনজ্যোত বাহিয়া, এখানে সবচেয়ে দরকারী চিকিৎসা পরীক্ষাগুলি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন, যা প্রত্যেক ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতি বছরেই করা উচিত।

  1. পায়ের পাতা পরীক্ষা:
    পায়ের পাতা নিয়মিত পরীক্ষা করলে এর অঙ্গচ্ছেদ এবং এর যে কোনো রকম ঘা বা প্রদাহ ইত্যাদি সহজে এড়ান যায়, যা ডায়াবেটিক রোগীদের হওয়া সবচেয়ে সাধারণ জটিলতা হিসেবে পরিচিত। পায়ের পাতা বা অন্য কোনও ত্বকের কাটা-ছেঁড়া, ঘা হওয়া, ত্বকের তাপমাত্রা পরিবর্তন জনিত ব্যাপারগুলি প্রতিটি পরিদর্শনে ডাক্তার কর্তৃক ভালো করে পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়াও, ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের পাতার স্বাস্থ্য ও অবস্থা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া উচিত এবং কোনোভাবেই পায়ের পাতায় আঘাত লাগা উচিত নয়।
  1. হিমোগ্লোবিন A1C পরীক্ষা:
    HbA1c পরীক্ষা বা গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিন হল রক্ত​-শর্করার মাত্রা নির্ণয় ও নিরীক্ষণের জন্য একটি পরীক্ষা। এটা 12 সপ্তাহের জন্য সম্পন্ন করা গড় রক্ত​-শর্করার মাত্রা দেখায়। এটা ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতি তিন মাসে একবার করা উচিত এবং যারা ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত হননি তাদেরও একবার করে বার্ষিক স্ক্রিন করা আবশ্যক।
  1. লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা:
    ডায়াবেটিক রোগীদের প্রতি 6 মাস অন্তর লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা উচিত এবং সুস্থ ব্যক্তিদের বছরে একবার স্ক্রিন করা উচিত। উচ্চ স্তরের হৃদরোগ এবং পক্ষাঘাতের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে এবং ডায়াবেটিস এই ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে এই আশঙ্কায় কোলেস্টেরল প্রোফাইল পরীক্ষা অবশ্যই অপরিহার্য। আপনার কোলেস্টেরল মাত্রা এবং ট্রাইগ্লিসারাইডস (এক ধরনের রক্তের চর্বি) বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করুন।
  1. কিডনি পরীক্ষা:
    সুস্থ-সবল কিডনি রক্ত ​​থেকে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল অপসারণ করতে কাজ করে। রক্ত পরীক্ষার সাহায্যে, আপনার ডাক্তার সহজেই জানতে পারেন যে কিডনিগুলি ঠিক মতো বর্জ্য অপসারণ করছে কিনা। মূত্র পরীক্ষাগুলির সাহায্যে শরীরের বর্জ্যগুলি কত দ্রুত সরানো হচ্ছে এবং কিডনিগুলি অস্বাভাবিক পরিমাণ প্রোটিন লিক করছে কিনা তা জানা যেতে পারে। অতএব, বার্ষিক কিডনি কার্যকারিতা পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়।
  1. রক্ত-চাপ মাত্রা:
    উচ্চতর মাত্রার রক্ত-চাপ রোগকে হৃদরোগ এবং পক্ষাঘাতের মতো গুরুতর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। নিয়মিত সুষম খাদ্য খাওয়া এবং সুস্থ জীবনযাপন আপনার রক্ত-​​চাপ স্বাভাবিক পরিসরের মধ্যে রাখতে পারে। বছরে অন্তত একবার রক্ত-চাপ পরীক্ষার সুপারিশ করা হয় এবং সবারই মধ্যে হৃদরোগ জনিত সমস্যাগুলির ঝুঁকি থাকে, প্রতি দুই মাসে একবার অন্তত এই পরীক্ষা করা উচিত।
  1. ডাইলেটেড চোখের পরীক্ষা:
    রেটিনোপ্যাথির ঝুঁকি এড়াতে ডায়াবেটিক রোগীদের ডাইলেটেড আইজ পরীক্ষা বা ফান্ডাস এক্সামিনেশন করা হয়। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি প্রাপ্ত-বয়স্কদের অন্ধত্বের প্রধান কারণ। একটি ডাইলেটেড চোখের পরীক্ষার জন্য, একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ দ্বারা বার্ষিক একবার করে পরীক্ষা করার সুপারিশ করা হয়।
  1. ডেন্টাল পরীক্ষা:
    আপনার দাঁতের যত্ন নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য। যদি আপনি কিছু গুরুতর দাঁতের সমস্যায় ভোগেন যেমন জেরোস্টোমিয়া – মুখের মধ্যে জ্বলে যাচ্ছে এমন সমস্যার জন্য একটি মেডিক্যাল পরিভাষা হল জেরোস্টোমিয়া, তা এই রোগের সঙ্গে লড়াই করলে, আপনাকে ডাক্তার দেখাতেই হবে; ক্ষত আরোগ্য করতে দীর্ঘ সময় লাগে; আপনি আরো বেশি সংক্রমণ প্রবণ হন; আপনার প্যারোটিড লালাগ্রন্থির লক্ষণীয় বৃদ্ধি ঘটে; আপনার পেরিওডন্টাইটিস থাকতে পারে। অতএব, এইসবই পরীক্ষা করতে একটি দ্বি-বার্ষিক দাঁতের পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়।

  2. ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষা:
    ইলেক্ট্রোকার্ডিওোগ্রাম (ECG বা EKG) হল হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক ও পেশীবহুল কার্যকারিতাগুলির মূল্যায়ন করতে ব্যবহৃত একটি রোগ-নির্ণয়গত সরঞ্জাম। আপনি ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন-এ ভুগলে প্রতি বছর একটি বার্ষিক ইসিজি পরীক্ষার সুপারিশ করা হয়। 
    উপরের উল্লিখিত বিষয়গুলি ছাড়াও, ডায়াবেটিসটি ইউরিন অ্যালবুমিন ক্রিয়েটিনিন  পরীক্ষা করা উচিত, যা প্রতি তিন মাসে একবার করে করা দরকার। ডায়াবেটিক কিডনির রোগ নির্ণয় করতে এটি প্রথমতম পরীক্ষা। অবশেষে, ডায়াবেটিক মহিলাদেরও বার্ষিক পপ স্মিয়ার, ম্যামোগ্রাফি এবং থাইরয়েড প্রোফাইল পরীক্ষার জন্য যেতে হবে।

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.