Reading Time: 4 minutes

বিশেষজ্ঞ অশ্বিনী এস. কানাডের দ্বারা পর্যালোচিত, যিনি 17 বছরের অভিজ্ঞতাসহ একজন নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ান এবং শংসাপত্রপ্রাপ্ত ডায়াবেটিস এডুকেটর।

আমাদের চোখ একটি ছোট অথচ জটিল অঙ্গ যাতে আরও বিভিন্ন ছোট ছোট প্রত্যঙ্গ রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলিই রক্তের বিপাকীয় পরিবর্তনের প্রতি সংবেদনশীল।

ডায়াবেটিস থাকলে তা চোখকে বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন করে তোলে, যেমন চোখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, ছানি, এবং ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি-শেষেরটি এমন একটি গুরুতর রোগ যা চোখের রেটিনাকে আক্রমণ করে।(1) টাইপ 2 ডায়াবেটিস থাকা 20% থেকে 40% মানুষেরই ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি দেখা দেয়, যদিও এই হারটি এশীয় দেশগুলিতে পাশ্চাত্য দেশের তুলনায় কিছুটা কম (ভারতে 23%)।(2) ডায়াবেটিস দৃষ্টিশক্তি খারাপ হওয়ার একটি সাধারণ কারণ, এটি থেকে অন্ধত্বও আসতে পারে।

ডায়াবেটিস থেকে কীভাবে চোখের রোগ দেখা দেয়?

হাইপারগ্লাইসেমিয়া (উচ্চ রক্ত শর্করা) রক্তনালীর (ছোট সংযোগকারী রক্তনালী) মধ্যে থাকা রক্তের স্বাভাবিক চাপের ভারসাম্য বিঘ্নিত করে। ফলস্বরূপ, রক্তনালী থেকে বেরোনো তরল ছিদ্রপথে বেরোতে থাকে বা রক্তনালীগুলি অবরুদ্ধ হয়ে যায়। অন্যান্য বিষয়ও এতে অবদান রাখে, এবং এমন পদার্থ তৈরী করে (যেমন উন্নততর পর্যায়ে গ্লাইকেশনের চূড়ান্ত দ্রব্য) যা রেটিনার ক্ষতি করে।

কী ধরনের চোখের রোগ দেখা দিতে পারে?

শুষ্ক চোখের মত ছোটখাটো সমস্যাগুলিও গুরুতর ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি থাকার জন্য অন্ধত্বের দিকে গড়াতে পারে। প্রায়শই ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তি এটির ব্যাপারে সচেতনই হন না যতক্ষণ না রোগটি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে যায়।

1. শুষ্ক চোখ:

ডায়াবেটিস থাকা বেশিরভাগ রোগীরই অন্ততঃ শুষ্ক চোখের সমস্যা থাকে। যাইহোক, বহু ব্যক্তির ক্ষেত্রে আবার কর্ণিয়ার সংবেদনশীলতা কমে যায়, যা চোখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা লক্ষ্য করা ও চিকিত্সা চাওয়ার (কৃত্রিম অশ্রু) ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটায়।(2) চোখ শুকোনোর সমস্যা বিরক্তিকর তো বটেই, কিন্তু এটির প্রতি অবিলম্বে মনোযোগ দেওয়া জরুরী, যেহেতু এটি বেশিদিন চিকিত্সা না করিয়ে ফেলে রাখলে চোখের উপরিতলের ক্ষতি করতে পারে।

2. সংক্রমণ:

ডায়াবেটিস থাকা ব্যক্তিদের পক্ষে চোখের সংক্রমণ গড়ে ওঠার ঝুঁকি বেশি, যেমন চোখের পাতার, কর্ণিয়ার সংক্রমণ ও কনজাংটিভাইটিস (পিংক আই)। রক্ত শর্করা কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করাটা জরুরী, এবং সংক্রমণ দেখা দিলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার চিকিত্সা করানো দরকার।

3. ছানি:

এটি ডায়াবেটিসের অন্যতম পরিচিত চোখের সমস্যা। ছানি হল চোখের ভিতরে থাকা লেন্সের উপরে পড়া সরের মত আস্তরণ, যা কারোর দৃষ্টিকে ব্যাহত করতে পারে। ডায়াবেটিস থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের (65 বছরের থেকে ছোট হলে) মধ্যে ছানির আশঙ্কা চারগুণ বেড়ে যায়। ছানি তৈরীর সাথে হাইপারগ্লাইসেমিয়া সরাসরি জড়িত, এমনকি প্রিডায়াবেটিস পর্যায় থেকেও এটির সূত্রপাত হতে পারে (উপোস করা অবস্থায় রক্ত শর্করা 110 থেকে 125 মিগ্রা/ডেসিলি থাকলে)। সুখবর এই যে, কঠোর হাতে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করলে, ডায়াবেটিস থেকে দেখা দেওয়া কিছু মৃদু আকারের ছানি বাস্তবে সরে যেতে পারে। ছানির চিকিত্সা হল আক্রান্ত লেন্সটিকে অস্ত্রোপচার করে সরিয়ে এর জায়গায় একটি কৃত্রিম লেন্স বসিয়ে দেওয়া।(3)

4. গ্লুকোমা:

এটি হল চোখের ভিতরে তরলের চাপ বাড়া। শুরুর পর্যায়ে, কোনো উপসর্গ হয়তো থাকবে না, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, অপ্টিক স্নায়ুর সঙ্কোচনের ফলে দেখায় অসুবিধা হতে পারে। গ্লুকোমা থাকা প্রায় 10% ব্যক্তি চিকিত্সা না করালে তাঁদের পুরো দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন।(3) চোখের ডাক্তারের কাছে গেলে সহজেই গ্লুকোমা শনাক্ত করা যায়।

5. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি:

এটি সম্ভবতঃ ডায়াবেটিস থেকে আসা সবথেকে গুরুতর চোখের সমস্যা এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি হারানোর অন্যতম সাধারণ কারণ।(2) ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি রেটিনাকে প্রভাবিত করে, এবং শুরুর দিকে হয়তো কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে, তবে ধীরে ধীরে দেখার শক্তি কমতে থাকে ও কোন কোন সময় অন্ধত্ব আসতে পারে। ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসাবে মূলতঃ তিনটি বিষয়কে দায়ী করা যায়: ডায়াবেটিসের কতদিন ধরে রয়েছে, হাইপারগ্লাইসেমিয়া এবং উচ্চ রক্তচাপ। তাছাড়াও, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি এবং জীবনযাত্রা (অন্যান্য জীবনযাত্রাজনিত রোগের জন্যও)একে অপরের সাথে জড়িত। সাধারণতঃ লেসার দিয়ে বা কতটা বেড়েছে তার উপর নির্ভর করে অস্ত্রোপচার করে (প্যানরেটিনাল লেসার ফটোকোঅ্যাগুলেশন বা পার্স-প্ল্যানা ভিট্রেক্টমি) এটির চিকিত্সা করা হয়, যদিও ওষুধ হয়তো কিছুটা মাত্রায় কার্যকর হতে পারে।(3) ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি মৃদু হলে তা কিছু রোগীর ক্ষেত্রে 1 বা 2 পর্যায় কমানো যেতে পারে, তাই এটি থাকলে কঠোর হাতে রক্ত শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা সর্বাপেক্ষা জরুরী।(2)

অনুধাবন সাক্ষাত্

যদি আপনার সম্প্রতি ডায়াবেটিস বা প্রাক-ডায়াবেটিসের পর্যায় ধরা পড়ে থাকে, তাহলে আপনার পক্ষে কোনো চক্ষুরোগবিশেষজ্ঞকে দেখাতে যাওয়ার সময় ঠিক করে নেওয়াই ভালো হবে।(1) এর সাথে বার্ষিক চক্ষু পরীক্ষা করানোও উচিত, কারণ যেরকম আগে বলা হয়েছে তাতে চোখ সংক্রান্ত বহু জটিলতাই খুব বাড়াবাড়ির পর্যায়ে না গেলে কোনো উপসর্গ দেখায় না। যদি আপনার চোখ সংক্রান্ত কোনো সমস্যা না থাকে-বিশেষ করে দেখার সমস্যা, কিছু পড়তে গিয়ে নতুন করে বা আচমকা কষ্ট হওয়া, রঙ দেখতে সমস্যা হওয়া বা কালো বিন্দুর মত কিছু দেখার সমস্যা হয়-তাহলে আপনার যত শীঘ্র সম্ভব চক্ষুরোগবিশেষজ্ঞকে দেখাতে যাওয়া উচিতষ এবং যদি আপনার ইতিমধ্যেই ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি থাকে, তাহলে গুরুত্বের উপর নির্ভর করে, আপনার চিকিত্সক আপনাকে প্রতি 3-6 মাস অন্তর দেখাতে যেতে বলবেন।

বিশেষ যত্ন

গর্ভাবস্থার সময় হরমোনের পরিবর্তন থেকেও ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি আরও খারাপ হয়ে উঠতে পারে(1), কাজেই গর্ভাবস্থার সময় বিশেষ যত্ন এবং অনুধাবন করানোটা জরুরী। এছাড়াও, ডায়াবেটিসজনিত চোখের সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের বৃক্কের জটিলতা দেখা দেওয়ারও ঝুঁকি থাকে। কাজেই যদি আপনার ডায়াবেটিস সংক্রান্ত চোখের রোগ থাকে তাহলে বৃক্ক পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া, বা ঠিক উল্টোটা করানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

চিকিত্সার সামগ্রিক চিত্র

সৌভাগ্যবশতঃ নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করালেই বেশির ভাগ চোখের সমস্যাগুলি আগেই ধরা পড়ে। চক্ষুরোগবিশেষজ্ঞ আপনার চোখের-আপনার কর্ণিয়া, ইন্ট্রাঅকুলার চাপ, রেটিনা ইত্যাদির সর্বাঙ্গীণ মূল্যায়ন করানোর জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করবেন। কিছু রোগ (চোখ শুকিয়ে যাওয়া, সংক্রমণ) শুধু ওষুধেই সারানো যেতে পারে অন্যগুলির জন্য (ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, ছানি) অনিবার্যভাবেই অস্ত্রোপচার করতে হয়।

রোগ প্রতিরোধের সামগ্রিক চিত্র

আপনার চোখের জটিলতার ঝুঁকি কমানোর জন্য ভালোভাবে রক্ত শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করাটা জরুরী। ডায়াবেটিসের পক্ষে ভালো এমন খাবারদাবার খান। আপনার সম্পূর্ণভাবে ধূমপান এড়ানো উচিত, এবং যদি আপনি মদ্যপান করেন, তাহলে সেটিও মাপমত খান।(1) খুব জোরালো প্রমাণ না পাওয়া গেলেও, ভিটামিন ডি-র ঘাটতিও কিন্তু ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে,(2) কাজেই আপনার চিকিত্সককে রক্ত পরীক্ষা করতে বলুন এবং জিজ্ঞাসা করুন যে আপনার কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার দরকার আছে কিনা।

 

তথ্যসূত্র:

  1. Nentwich MM, Ulbig MW. Diabetic retinopathy-ocular complications of diabetes mellitus. World journal of diabetes. 2015;6(3):489.
  2. Lee R, Wong TY, Sabanayagam C. Epidemiology of diabetic retinopathy, diabetic macular edema and related vision loss. Eye and vision. 2015;2(1):17.
  3. Skarbez K, Priestley Y, Hoepf M, Koevary SB. Comprehensive review of the effects of diabetes on ocular health. Expert review of ophthalmology. 2010;5(4):557-77.

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.