Reading Time: 3 minutes

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লোকেদের পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদিত হয় না বা তারা সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হন না। এর কারণে, রক্তে চিনির স্তর ছড়িয়ে পরে, যার ফলে কিডনি, হার্ট, ব্রেন, নার্ভ, চোখ এবং রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এইগুলি ছাড়াও, কিছু বেশি ওজনও ইনসুলিন প্রতিরোধ(1) করার ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে পারে, এটি এমন একটি অবস্থা যাতে আপনার শরীর আর ইনসুলিন সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এখানে ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য সঠিক ডায়েট ম্যানেজমেন্ট খুব প্রয়োজনীয়। সুতরাং কেউ কিভাবে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিতে সাফল্যের সাথে এটি করতে পারে?

একটি মনুষ্য পরিচালিত ক্যালোরি গণনা পরিষেবা, **দ্য ফুড অ্যানালিস্ট এর প্রতিষ্ঠাতা, ভীর রামলুগন,** আমাদের ডায়াবেটিস-বান্ধব ডায়েটের প্রাথমিক অপরিহার্য বিষয়গুলি অন্বেষণে সহায়তা করবেন যা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সমস্ত মানুষের অনুসরণ করা উচিৎ।

ডায়াবেটিসে আহারের সঠিক রীতি:

-খাবার বাদ দেবেন না, বিশেষত প্রাতঃরাশ
– অ-ল্প পরিমাণে, নিয়মিত বিরতিতে খান
-আপনার কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণের উপর নজর রাখুন
-কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সহ কার্বোহাইড্রেটে ফোকাস করুন
–খাবারের গ্লাইসেমিক লোড কমিয়ে আনতে কার্বোহাইড্রেটের সাথে প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাট একত্রিত করুন
-বিকাল 4 টের পরে ফল খাবেন না
-চিনিযুক্ত এবং চর্বিযুক্ত খাবারের পরিমাণ কম করুন
-খাওয়ার সময় পরিমাণের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা অভ্যাস করুন
-লুকানো উপাদানগুলি খুঁজে বের করতে এবং পরিমাণ:ক্যালোরির অনুপাতের হিসাব রাখতে সমস্ত প্যাকেজ করা খাবারের লেবেল পরীক্ষা করুন।
-প্রতিদিন কমকরে 30 মিনিট ব্যায়াম করুন
-চিনি-মিষ্টিযুক্ত পানীয় এবং খাবারগুলি এড়িয়ে চলুন
-ফলের রস খাওয়ার পরিবর্তে ফল কামড়ে খান
– বাদাম এবং অয়েলসীড বা দুগ্ধজাত বিভিন্ন কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত ফিলারগুলি স্ন্যাক্স হিসাবে বেছে নিন
-আপনার প্লেটে প্রোটিনের পরিমাণ সব থেকে বেশী রাখুন
-চিনির পরিবর্তে সুইটনার ব্যবহার করুন
-আলু এবং রুটির পরিবর্তে শাকসবজি যোগ করুন
-ময়দার পরিবর্তে উচ্চ ফাইবারের দানা ব্যবহার করুন
-স্টার্চবিহীন শাক-সবজির উপর জোর দিন
-কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত দুগ্ধজাত খাদ্য বেছে নিন
-দিন বাড়ার সাথে সাথে কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খান
-আপনার খাবারের সাথে স্বাস্থ্যকর চর্বি যুক্ত করুন
-একটি ম্যাক্রো-কাউন্টারের সাহায্যে আপনার খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ মেপে নিন

উপরের সঠিক রীতিগুলি থেকে আমরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ব্যাখ্যা করব।

ব্লাড সুগারের স্পাইকগুলি এড়িয়ে যেতে গ্লাইসেমিক লোড সম্পর্কে বিবেচনা করুন

কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার আপনার চিনির মাত্রা কত বাড়িয়ে দেবে তার একটি সূচক হল গ্লাইসেমিক লোড। আপনি যখন হাই গ্লাইসেমিক লোড এবং হাই গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সহ খাবার খাচ্ছেন, তখন ব্লাড সুগারের মাত্রা খুব বেড়ে যায়, যাতে অল্প সময়ের জন্য পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি হয়; কিন্তু তারপরে ব্লাড সুগার ঝট করে নেমে যায়, যার ফলে আপনাকে আবার খাবারের খোঁজ করতে হবে (বিশেষত কার্বোহাইড্রেট) এবং আপনি শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলেন। এই পুরো পদ্ধতিটি আপনার ওজন বৃদ্ধি এবং চিনির মাত্রা বৃদ্ধিতে সরাসরি অবদান রাখে। গ্লুকোজের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য, কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং কম গ্লাইসেমিক লোডযুক্ত খাবার খান। আপনার রক্তে চিনির মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আপনি দীর্ঘক্ষণ খিদের অনুভব করবেন না।

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস করুন

পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে আপনি আপনার খাবারে কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এটি বিশেষ করে রক্তে গ্লুকোজের স্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রিত রিলিজ বজায় রাখতে সহায়তা করবে। খাদ্যে ক্যালোরির সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় ওজন বৃদ্ধিও কম হয় ফলে আপনার শরীরের ইনসুলিনের প্রতি সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রার ভারসাম্য বজায় রাখে।

খাদ্যবস্তু কেনার সময় সেগুলির পুষ্টি সম্পর্কিত তথ্যগুলির পাঠোদ্ধার করুন

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষদের জন্য ফুড ইন্ডাস্ট্রি শত শত স্বাস্থ্যকর বিকল্প নিয়ে এসেছে। প্রাকৃতিক কম চিনিযুক্ত সুপারফুডগুলি প্যাকেজ-সংস্করণে রূপান্তরিত করা হয় যা ডায়াবেটিস-বান্ধব বলে দাবি করে, যেমন রাগি বিস্কুট। তবে, একটি বিস্কুট যা প্রক্রিয়াজাত এবং পরিশোধিত তা কখনই পুরো শস্যের পুষ্টিকর বৈশিষ্ট্যের প্রতিরূপ হতে পারে না। বাস্তবে, এটি কেবল একটি বিজ্ঞাপনের চালাকি। উদাহরণস্বরূপ, কম চর্বিযুক্ত খাবারগুলিতে পূর্ণ মাত্রায় চিনি থাকে এবং কম চিনিযুক্ত খাবারগুলিতে সাধারণত ফ্যাট থাকে; দুটোই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষে সমানভাবে খারাপ।

কিছু খাবার ফাইবার সমৃদ্ধ বলে দাবি করে; কিন্তু, তারা যে পরিমাণ ফাইবার সরবরাহ করে তা দৈনিক প্রস্তাবিত ফাইবারের 10% পরিমাণও পূরণ করে না। তার ওপর, উপাদানগুলির উদ্দেশ্য এবং বিকল্প নামগুলির তথ্য সম্পর্কে কিছু জানা না থাকায় সাধারণ মানুষকে সহজেই লেবেলে লুকানো উপাদানগুলি দিয়ে ছলনা করা হয়। সুতরাং, লেবেলিং এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির তথ্য এবং কৌশল সম্পর্কে নিজেকে শিক্ষিত করা স্বাস্থ্যকর খাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনও অবহেলিত দিক।

এগুলি স্বাস্থ্যকর খাওয়ার কয়েকটি প্রাথমিক ধারণা যা আপনার ডায়াবেটিস থাকলে আপনাকে সহায়তা করবে। এই আচরণ এবং রীতিগুলি অভ্যাস করতে শুরু করুন এবং আপনি আপনার খাওয়ার ধরণে এবং আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দুর্দান্ত পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

তথ্যসূত্র:

1. Barbara B. Kahn and Jeffrey S. Flier. Obesity and insulin resistance. J Clin Invest. 2000 Aug 15; 106(4): 473–481. doi: 10.1172/JCI10842, https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC380258/

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.