Reading Time: 2 minutes

ডিসলিপিডেমিয়া (বা হাইপারলিপিডেমিয়া) রোগে রক্তে লিপিডের (কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডস) পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ উচ্চ মাত্রায় থাকে। এর একটি কারণ আপনার জীনগত (প্রাথমিক কারণ) হতে পারে অথবা এটি অন্য বিপাকীয় রোগের (দ্বিতীয় কারণ) কারণেও হতে পারে। জীনগত কারণগুলির কোনো চিকিৎসা করা যায় না, তবে দ্বিতীয় বিপাকীয় কারণের বিষয়ে অবশ্যই সিরাম লিপিড মাত্রা কমিয়ে কাজ করা যেতে পারে; এতে হৃদযন্ত্র ঘটিত রোগের ঝুঁকি কমে।

ডিসলিপিডেমিয়া রোগের সাধারণ গৌণ কারণ (1-3)

1.ডায়াবেটিস মেলিটাস: অনিয়ন্ত্রিত টাইপ 1 এবং টাইপ 2 ডায়াবেটিস মেলিটাস ডিসলিপিডেমিয়া রোগের সর্বাধিক সাধারণ কারণগুলির মধ্যে একটি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা না হলে উচ্চ-মাত্রার কোলেস্টেরলের চিকিৎসা করলেও এর প্রভাব বেশ কম কার্যকর হয়।(2)

2. অত্যধিক অ্যালকোহল পান: খুব বেশি মদ্য-পান রক্তের উচ্চ-মাত্রার লিপিড উপস্থিতির আরেকটি সাধারণ কারণ। ‘অত্যধিক অ্যালকোহল’ বলতে বেশিরভাগ দিনেই প্রতিদিন > 2টি স্ট্যান্ডার্ড পানীয়ের পরিমাণ হিসাবে এটিকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। অন্যদিকে, গবেষণায় দেখানো হয়, সুরার মাঝারি মাপের পানে (সাধারণত দিনে এক গ্লাস রেড ওয়াইন) তা শরীরের উপকারী কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। (1)

3. উচ্চশর্করা যুক্ত ডায়েট: উচ্চ-শর্করা যুক্ত খাদ্যতালিকা (অর্থাৎ, যখন আপনার দৈনিক খাদ্যের 60% বা তার বেশি পরিমাণ খাদ্য গ্রহণ শর্করা যুক্ত খাদ্য থেকে আসে) দৃঢ়ভাবে ডিসলিপিডেমিয়া রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। (3)

4. কিডনির রোগ: কিডনি জনিত রোগের কিছু ধরনও (বিশেষত দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ বা অ্যালবুমিনুরিয়া) দৃঢ়ভাবে ডিসলিপিডেমিয়া রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। কিডনি্র ক্ষতি যত বেশি পরিমাণে হয়, হাইপারলিপিডেমিয়া রোগেরও তীব্রতা ততোই বেশি হতে থাকে। এছাড়াও, এই রোগে ভোগা ব্যক্তিদের অন্যান্য সহাবস্থান জনিত অন্যান্য রোগাবস্থারও ঝোঁক রয়েছে, যা ডিসলিপিডেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

5. হাইপোথাইরয়েডিজম: রক্তে নিম্ন থাইরয়েড হরমোনের খুব কম মাত্রায় উপস্থিতি যা হাইপোথাইরয়েডিজম রোগ হিসাবে পরিচিত, এটি চর্বির বিপাক সহ সাধারণভাবে বিপাক পদ্ধতিকে প্রভাবিত করে। অতএব, যদি চিকিৎসা না করে ছেড়ে দেওয়া হয় তবে লিপিড মাত্রা গ্রহণ-যোগ্য পরিসীমা পেরিয়ে যাবে। সুখবর হল হাইপোথাইরয়েডিজম রোগের চিকিৎসা লিপিড মাত্রা কমানোর জন্য বিশেষভাবে অবদান রাখতে পারে।(2)

6. ওষুধ সেবন: যদিও বেশ কয়েকটি ওষুধ ডিসলিপিডেমিয়াতে বেশ ভালো কাজ করে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এস্ট্রোজেন ব্যবহার হয়, কিছু ধরনের মধ্যে, কিছু ওষুধ হাইপারটেনশন, অ্যান্টিসাইকোটিকস রোগেওর চিকিৎসায় এবং কিছু নির্দিষ্ট স্টেরয়েডগুলি ব্যবহৃত হয়।(2) পৃথকভাবে যদিও এই রোগগুলি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না, তবে উপরোক্ত কোনও কারণগুলির সাথে মিলিত হলে সেই ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

7. মানসিক চাপ: শহাইপারলিপিডেমিয়া রোগীদের মাঝে মধ্যে মানসিক পীড়ন বা চাপ জনিত তীব্রতা দেখা গেলেও, তার জন্য এটি একটি নির্দিষ্ট কারণ কিনা তা এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। যাইহোক, এটা নিশ্চিত যে, মানসিক চাপ কমানো (বিভিন্ন উপায়ে যেমন যোগাভ্যাস, ধ্যান, প্রাকৃতিক উপায় অনুসরণ বা এগুলির সমন্বয়) হলে তা অপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

একমাত্র জীনগত কারণ ছাড়া ডিসলিপিডেমিয়ার অন্যান্য কারণগুলি চিকিৎসায় দূর করা যেতে পারে। যদি আপনার এর মধ্যে কোনো একটি আচরণ বা পরিস্থিতি ঘটে এবং বিশেষ করে যদি আপনার একাধিক এমন বিশেষ অবস্থা থাকে তবে জটিলতার ঝুঁকি কমাতে জীবনযাপনে কিছু সংশোধন করার সময় এসেছে। খাদ্য-তালিকা অনুসরণ ও ব্যায়াম করার মতো জীবনযাপনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ডিসলিপিডেমিয়া নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধ কীভাবে করবেন তা বুঝতে আমাদের নিবন্ধটি দেখুন।

 

References:

  1. Kopin L, Lowenstein CJ. Dyslipidemia. Annals of internal medicine. 2017 Dec 5;167(11):ITC81-96.
  2. Vodnala D, Rubenfire M, Brook RD. Secondary causes of dyslipidemia. The American journal of cardiology. 2012 Sep 15;110(6):823-5.
  3. Sweeney M. Hypertriglyceridemia: Practice Essentials, Pathophysiology, Etiology [Internet]. Emedicine.medscape.com. 2019 [accessed 17 April 2019]. Available from: https://emedicine.medscape.com/article/126568

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.