Reading Time: 3 minutes

বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচনা করেছেন অশ্বিনী এস. কানাদে, 17 বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নিবন্ধিত পথ্য-বিশেষজ্ঞ এবং প্রত্যায়িত ডায়াবেটিস অধ্যাপক

সত্যতা-যাচাই করেছেন আদিত্য নর, বি.ফার্ম, এমএসসি., জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি

এমন একটি সবজি আছে যা বেশিরভাগ মানুষ তার স্বাদের কারণে এড়িয়ে যায়- সেটি করলা বা তেতো করলা। তবে বাহ্যিক চেহারা দেখে কাউকে বিচার করবেন না-এই তেতো সবজিটি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায় গতানুগতিক ঔষধে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং আপনি এটি কীভাবে ব্যবহার করবেন তা এখানে দেয়া হলো

কিভাবে তেতো করলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়

করলা কে কেটে  রস তৈরি করা এবং প্রতিদিন প্রায় 50 – 100 মিলি এই রস খাওয়া হচ্ছে একটি সাধারণ চর্চা।

কীভাবে রস তৈরি করবেন:

  1. একটি মাঝারি আকারের তেতো করলা ভাল করে ধুয়ে নিন, মাঝ বরাবর কাটুন এবং বীজ ও চারপাশের সাদা অংশগুলি বের করে নিন।
  2. তারপরে সবুজ অংশটি ছোট চারকোণা আকারে কাটুন এবং এটিকে আধ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে রাখুন।
  3. যদি আপনি রসের তিক্ততা কমাতে চান তাহলে এতে আধা চাচামচ লবণ বা অর্ধেক লেবুর রস মেশান।
  4. আধ ঘণ্টা পরে জল ঝরিয়ে নিন, মিক্সার মেশিনে দিন এবং প্রয়োজন মতো সামান্য জল ব্যবহার করে মসৃণ রস করে নিন।
  5. কিছু মানুষ রসকে আরও স্বাদযুক্ত করতে এর সাথে এক চিমটি কালো গোলমরিচের গুঁড়ো বা আদা গুড়ো মিশাতে পছন্দ করেন।

বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের করলা রস বাজারে পাওয়া যায় এবং তাতে মাত্রার নির্দেশাবলীও দেয়া থাকে তবে, যেহেতু এটি রক্তে শর্করার মাত্রা অনিশ্চিত মাত্রায় কমাতে পারে, তাই শুধুমাত্র আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়ার পরেই এটি গ্রহণ করা সবচেয়ে ভাল।

আমি কি এর পরিবর্তে করলার তরকারি বা সবজি খেতে পারি?

বাবুর্চি সঞ্জীব কাপুর তাঁর ওয়েবসাইটে, এক বাটি নরম, সিদ্ধ করা তেতো করলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর তিক্ততা কমাতে প্রচুর পরিমাণে তেল এবং অন্যান্য মশলা বা গুড় দিয়ে করলা রান্না করলে, সবজিটি থেকে প্রাপ্ত উপকারের ক্ষতি হতে পারে।

তেতো করলা খাওয়ার সময় এটি মনে রাখবেন

যদিও এটি বেশিরভাগ মানুষের পক্ষে নিরাপদ, তবে এটি গর্ভবতী মহিলাদের খাওয়া উচিত নয় কারণ এর বীজ এবং রস প্রাণী গর্ভপাত ঘটানোর কারণ হিসেবে পরিচিত। ক্যারেলা খাওয়ার কারণে যে সমস্ত মানুষের গ্লুকোজ 6 ফসফেট ডিহাইড্রোজিনেস এনজাইম (G6PD) ঘাটতির জন্য ‘ফেবিজম’ (লোহিত কণিকা ভেঙ্গে যায়, হিমোলিটিক রক্তাল্পতা ঘটায়)নামক অবস্থার বৃদ্ধি হতে পারে এবং তাদেরও এটি এড়িয়ে চলা উচিত।(1)

রস হিসাবে, যদি এটি বেশি পরিমাণে খাওয়া হয় তবে এটি ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।(2)

তবে, করলা কেন?

 করলার বেশ কয়েকটি ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে; তিনটির যেগুলিতে (চরন্তিন, ভিসিন এবং পলিপেপটাইড-পি) লক্ষণীয়ভাবে ডায়াবেটিস বিরোধী কাজ দেখিয়েছে। এছাড়া, এটিতে ল্যাকটিন নামে আরও একটি যৌগ রয়েছে যাতে ক্ষুধা কমানোর প্রবণতা রয়েছে – ডায়াবেটিসে অঘোষিত এই ক্ষুধার যন্ত্রণাগুলি কমাতে সাহায্য করার একটি আদর্শ সমাধান।(3)

গবেষণা কী বলে

গবেষণা হতে দেখা যায় যে তেতো করলা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় টাইপ 2 ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় এটি পেশী দ্বারা শর্করা ব্যবহারকে উদ্দীপিত করে; দেহের ভিতর শর্করা তৈরিতে জড়িত এনজাইমগুলিকে দমন করে এবং এটি ক্ষুধা কমাতেও সাহায্য করে।

তবে, লক্ষণীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হ’ল এই গবেষণাগুলির বেশিরভাগই চিকিত্সাশাস্ত্রের (মানুষের উপর পরীক্ষা করা) গবেষণার চেয়ে জৈব রাসায়নিক এবং প্রাণী অধ্যয়নের  মাধ্যমে করা গবেষণা মানুষের উপর পরিচালিত গুটি কয়েক গবেষণাগুলি গবেষণার দুর্বল নকশা, কম সংখ্যক নমুনা জনগণ এবং অপর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণের মতো ত্রুটিগুলিতে ভুগছে। সুতরাং এই গবেষণার ফলাফলগুলি ডায়াবেটিসে ফলপ্রসূ হওয়ার অকাট্য প্রমাণ হিসাবে নেওয়া যেতে পারে কিনা তা অনিশ্চিত।(1),(3),(4)

তাহলে, আপনার কি ক্যারেলা ব্যবহার করা উচিত না উচিত নয়?

আয়ুর্বেদীয় চিকিত্সক ডাঃ কালরঞ্জনী আমাদের বলেন, “ডায়াবেটিসের চিকিত্সায় ক্যারেলার কিছু সুবিধা রয়েছে। তবে, আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, এটা একা কাজ করতে পারে না এবং একে অন্যান্য ঔষধের সাথে মিশাতে হয়, প্রতিটি ব্যক্তির দেহের গঠন বা প্রকৃতি বিবেচনা করার পর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

এছাড়াও, 2011 সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে চার সপ্তাহের মধ্যে প্রতিদিন 2000 মিলিগ্রাম করে ক্যারেলা বা তেতো করলার ওষুধের প্রয়োগ টাইপ 2 ডায়াবেটিস রোগীদের শর্করা হ্রাসে প্রভাব ফেলে(4)

এই দিকগুলি বিবেচনা করে,  তেতো করলা ডায়াবেটিসের ঔষধ হিসাবে যাচাই করা যেতে পারে তবে ভেষজ ঔষধ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে এটি ব্যবহার করা সবচেয়ে ভাল।

তবে এই তেতো সবজি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের একমাত্র ঘরোয়া ঔষধ নয়, এখানে কিছু ডায়াবেটিসের আরও গবেষণা-ভিত্তিক ঘরোয়া ঔষধ রয়েছে যা আপনি যাচাই করতে পারেন।

পাদটীকা

ডাঃ এ. কালরঞ্জনী, একজন আয়ুর্বেদীয় চিকিত্সক যিনি তাঁর সঞ্জীবনী আয়ুর চিকিত্সালয়, কে আর পুরম, বেঙ্গালুরু-তে পরামর্শ দেন

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.