sleep weight loss
Reading Time: 3 minutes

ধরা যাক যে আপনি গত দুই মাস ধরে প্রতিদিন দুটি করে ফল এবং সালাদ খাচ্ছেন। এছাড়াও, আপনি বাইরে গিয়ে খাওয়া বাদ দিয়েছেন। আপনি সপ্তাহে ছয় দিন ব্যায়াম অনুশীলন করছেন। আপনি প্রচুর পরিমাণে জলও পান করছেন। যাই করুন না কেন, আপনার ওজন স্কেল কিন্তু একটি ভিন্ন গল্প বলে। ওজন কমানর পরিবর্তে, আপনার ওজন এক বা দুই কেজি বেশি হয়ে যাচ্ছে।

আমরা বাজি ধরছি যে এটি কেন ঘটছে তা বোঝার জন্য আপনি এখন আপনার মাথা কুটছেন। ঠিক আছে, তবে শুনুন, উত্তরটি একটি অপ্রত্যাশিত জায়গায় রয়েছে: যেটা হল পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।

ডায়েট এবং ব্যায়ামের মতো ঘুমও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসাবে কাজ করে। আপনি যদি ওজন কমাতেই চান তবে আপনাকে কেবল সঠিক খাওয়া এবং অনুশীলন করলেই হবে তা না তবে রোজ রাতে পর্যাপ্ত ঘুমও ঘুমোতে হবে।

এটি কারণটা অনেকটা ক্রেডিট কার্ড-এ রাখা ধারের মতো, ঘুমের সময়ের অভাব ক্রমে আপনার জীবনে সুস্থতার বিলোপ ঘটাতে পারে।

প্রথমে ঘুমের প্রতি বঞ্চনা এবং ওজন বৃদ্ধির মধ্যে সংযোগটির ব্যাপারে ফিরে দেখি।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে তা আপনার হরমোনগুলিকে প্রভাবিত করে, বিশেষতঃ আপনার লেপটিন এবং ঘ্রেলিন স্তরকে। ঘ্রেলিন হল খিদে পাওয়ার হরমোন যা আপনাকে খেতে বলে। অন্যদিকে, লেপটিন হল তৃপ্তিসূচক হরমোন যা আপনাকে খাওয়া শেষ করার নির্দেশ দেয়। আপনি যখন পর্যাপ্ত ঘুম থেকে বঞ্চিত হন, তখন আপনার দেহ আরও বেশি ঘ্রেলিন এবং কম লেপটিন তৈরি করে। অতএব, অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার খিদে পাওয়া এবং এর পরবর্তী ক্যালরি গ্রহণ বাড়ায়। এছাড়াও, দেরিতে-রাতে কোনো হালকা খাবার খাওয়ার ইচ্ছে জাগারও এটি একটি সহজ উপায়।

এবং এটিই সব নয়। ঘুমের অভাব আপনার খাবারের পছন্দগুলিকেও প্রভাবিত করে। আপনার মস্তিস্কের সামনের লোব অংশটির ক্রিয়াকলাপ, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তা হ্রাস পায়। এছাড়াও, পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কর্টিসল নামক, পীড়নজনিত হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। অতিরিক্ত করটিসোল স্তরগুলি চর্বি এবং চিনিযুক্ত খাবারের জন্য আপনার আকাঙ্ক্ষাকে বাড়িয়ে তোলে। এই কারণেই সম্ভবতঃ আপনি রাতের কম সময়ের ঘুমের পরে সেই এক বাটি আইসক্রিম বা চিপসের একটি প্যাকেটের সঙ্গে খাওয়া বা না খাওয়ার লড়াই করছেন।

ঘুম এবং ডায়েটের মধ্যে আরেকটি যোগসূত্র হল ইনসুলিন প্রতিরোধের বৃদ্ধি। ঘুমের অভাব থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) এবং টেস্টোস্টেরন লেভেলকে প্রভাবিত করে যা ইনসুলিন সংবেদনশীলতা হ্রাস করে এবং আপনার রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়। যখন আপনার কোষগুলি ইনসুলিন প্রতিরোধী হয়ে ওঠে, তখন আরও বেশি চিনি রক্ত ​​প্রবাহে থেকে যায়। এই অতিরিক্ত চিনি পরে অবশেষে শরীরে ফ্যাট হিসাবে সঞ্চিত হতে থাকে।

এছাড়াও, ঘুমের অভাব আপনাকে দিনের বেলা কর্ম শক্তি কমিয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, আপনি কম সময়ের জন্য ব্যায়াম করতে চান। শারীরিক কার্যকলাপের অভাব আপনার ওজন কমানর যাত্রায় বাধা হয়ে উঠতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুমের অভাব কীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে তা আপনি এখন শিখে গেছেন যে, আট ঘন্টার ঘুমের চক্রটি কীভাবে আপনার রোগা, সুস্থ ও অতিরিক্ত চর্বিহীন শরীর পাওয়ার পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে।

আমরা বুঝতে পারি যে কীভাবে, অনিশ্চিত কাজের সময়, কাজের সময়সীমা, দেরিতে রাতের খাওয়া শেষ করা এবং বৈদ্যুতিন গ্যাজেটের অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার ঘুম পাওয়ায় বাধা দিতে পারে। সুতরাং, আমরা এমন কিছু টিপস নিয়ে এলাম যা আপনার অভ্যাসগুলি সামান্য বদলে নিয়ে এই সমস্যা পেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে পারে:

  •   সন্ধ্যা 5 টার পরে চা বা কফি পান না করা সহায়ক হয়। এই পানীয়গুলিতে থাকা ক্যাফিন সামগ্রী আপনাকে রাতেরবেলায় জাগিয়ে রাখে। আপনি যদি গরম কোনও কিছুতে চুমুক দিতেই চান তবে দুধ বা ক্যামোমিল চা আপনার সেরা পানীয় হতে পারে।
  •   রাতের খাবার হালকা ও কম খাওয়ার চেষ্টা করুন। আপনি যখন ঘুমানোর আগে ভারী খাবার খান, এর ফলে বদহজম এবং অম্বল হতে পারে, যা গভীর ঘুমে হস্তক্ষেপ করতে পারে। সন্ধ্যার জলখাবার যেমন স্যান্ডউইচ বা সালাদ খাওয়া আপনাকে বিপুল পরিমাণ রাতের খাবার থেকে দূরে রাখে।
  •   রাত 9টার আগে রাতের খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। যদি তা সম্ভব না হয়, কাজ থেকে বেরোনোর ​​আগে ভুনা মাখনার মতো ফল বা তেল মুক্ত স্ন্যাকস খান। এবার আপনি ঘরে এলে খানিকটা ডাল এবং শাকসব্জির সাথে একটি চাপাতি বা আধা বাটি ভাতেই রাতের খাবার সীমাবদ্ধ রাখুন।
  •   টেলিভিশন, স্মার্টফোন, আইপ্যাড এবং ল্যাপটপের মতো বৈদ্যুতিন ডিভাইসগুলি আপনার ঘুমকে প্রভাবিত করে যা থেকে কৃত্রিম নীল আলো নির্গত হয়। সুতরাং, আপনি যদি বিছানায় শোওয়ার কমপক্ষে আধ ঘন্টা আগে এ জাতীয় গ্যাজেটগুলি ব্যবহার এড়াতে পারেন তবে এটি দুর্দান্ত হয়।
  •   দিনের বেলা ঘুমোলে তা আপনার রাতের সময়ের ঘুমকে প্রভাবিত করে। সুতরাং, যদি আপনাকে দিনের বেলা ঘুমোতেই হয় তবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে এটি 20 মিনিটের বেশি হবে না। সর্বোপরি, আপনাকে পুনরায় কাজের শক্তি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এটা একটি পাওয়ার ন্যাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।
  •   রাতের খাবার খাওয়ার পরে আপনার দাঁত ব্রাশ করুন বা কিছু মৌরি বীজ চিবিয়ে নিন। পুদিনা আফটারটেসটও আপনাকে বেশি রাতের খাবারের লোভ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
  •   নিয়মিত একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার সময় এবং শয়নকালীন সময়ের লক্ষ্য-মাত্রা স্থির করুন। এই অভ্যাস আপনাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনে নেতৃত্ব দিতে এবং সঠিক খাদ্যাভাস বজায় রাখতে দেয়। মধ্যরাতের বেশ কিছু সময় আগে বিছানাতে শুয়ে পড়তে পারলে দুর্দান্ত হবে যাতে আপনার ঘুমের পুরো সময়টাই পাওয়া যায়।

যথাযথভাবে ও পর্যাপ্ত সময়ে রাতের ঘুমের জন্য সময় তৈরি করুন এবং নিজে এক হালকা মনে সামনের দিকে এগোন

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.