Reading Time: 4 minutes

অশ্বিনী এস কানাড়ে, রেজিস্টার্ড ডায়েটিশিয়ান এবং প্রত্যয়িত বিশিষ্ট ডায়াবেটিস শিক্ষাবিদ তাঁর 17 বছরের অভিজ্ঞতা সহ এটির বিশেষজ্ঞপর্যালোচনা করেছেন জনস্বাস্থ্য স্বাস্থ্যঅর্থনীতির মাননীয় আদিত্য নার, বি. ফারম, এমএসসি এই প্রবন্ধের বিষয়বস্তু পরীক্ষা করেছেন।

আমার সহকর্মী স্মিতাকে সেদিন অফিসের পার্টির সময় খুব নিস্তেজ আর বেশ কমই হাসিখুশি লাগছিল। যখন আমি আরও জোর করে তাকে বার বার জিজ্ঞাসা করছিলাম, তখন সে আমাকে বলেছিল যে তার স্বামী কেমন মনমরা হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন, যবে থেকে তার ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে, তার মনে হচ্ছে যেন শীঘ্রই তার জীবন শেষ হয়ে আসছে। পারিবারিক ছুটির দিনে ডিনার, পুরানো বন্ধুদের সাথে বাড়িতে মজা করে দল বেঁধে আড্ডা, 90-এর দশকের বলিউডের ম্যারাথনগুলি বা তার ভ্যানিলা চকোলেট ফাজ দিয়েছিল,  সব সেদিন থেকে বন্ধ হয়ে গেছে, ঠিক যেদিনই ডাক্তার তার সাথে কথা বলে তাকে এই বিষয়ে জানিয়েছিলেন। সেদিন থেকেই সে তার সঙ্গে আর ভালো করে কিছু কথাও বলেনি। বাচ্চারা তাদের ‘মজার বাবাকে’ আর পায় না। সে যখন তার কান্না নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিল, তখন সে এও স্বীকার করেছিল যে, সে আজকাল প্রায়ই অবাক হয়ে ভাবে যে এই রকম অদ্ভুত জীবন কি আর আগের মতো হাসিখুশি হবে।

দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের গল্প ক্রমেই সাধারণ গল্প হয়ে যাচ্ছে, ভারত বিশ্ব ডায়াবেটিস পর্যায়ে শুধুমাত্র চীনের পরেই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রয়েছে।(1)

সুতরাং, যদি আপনি নিজেকে স্মিতার মতো কোনো অবস্থানে খুঁজে পান, তবে প্রথম কাজটি হল উদ্বেগ দূরে ঠেলে দেওয়া। আপনি যদি এর ব্যাপারে ইতিবাচক না হন, তবে আপনার প্রিয়জনকে সাহায্য করার জন্য আপনি কিছুই করতে পারবেন না। তাকে সব রকমভাবে সাহায্য ও সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিন এবং এইখানে দেওয়া টিপস যতটা সম্ভব অনুসরণ করুন যা অন্যদের সাহায্য করেছে:

কম কথা বলুন এবং শুনুন:

সদ্য রোগ-নির্ণয়ের পর কোনো ডায়াবেটিক রোগী আপনার সঙ্গে কথা বলছেন এমন পরিস্থিতি হলে, তার কথা সাবধানে শুনুন এবং নিশ্চিত হোন যে সে যা চায় সেটি আপনি বুঝতে পারছেন। কেউ আপনার কাছে কোনো পরামর্শ চাইছেন নাকি কিছু জিজ্ঞাসা করছেন বা শুধুই নিজের মনের কষ্ট ভাগ করবেন বলে আপনার বোধ হয়? সেটা প্রথমে বুঝুন। তারা কি আপনার কম-ক্যালোরি যুক্ত ডায়েট-এর রেসিপি চান নাকি তারা সেই মুচমুচে সুস্বাদু পাকোরাগুলি আর খেতে পারছেন না বলে বিলাপ করছেন? সেটাও বুঝে নিন।

তাদের ঙ্কথা মন দিয়ে ধৈর্য্য ধরে শুনুন এবং প্রয়োজন হলে, তাদের কাঁদতে দিন, আপনি পাশে থাকুন। আপনার পরামর্শের দেওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না যতক্ষণ না তারা এর জন্য আপনাকে বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করে।

উৎসাহিত করুন, কিন্তু অযথা রোগটার সম্পর্কে ভয় দেখাবেন না:

ডাঃ বৎসলা কাশী, M.D, বলেছেন, “আজকাল, ডায়াবেটিস এত সাধারণ রোগ হয়ে গিয়েছে যে একে অপরের বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছ থেকে সুস্বাস্থ্যের নানা পরামর্শ পায়। এটি সদ্য রোগ-নির্ণয়ের পর কোনো ডায়াবেটিক রোগীর উপর এর ্প্রচুর প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষতঃ যদি কোন স্ত্রী প্রস্তাবিত প্রতিকারগুলির প্রতিটি চেষ্টা করার জন্য ব্যস্ত হয়। ডায়াবেটিক রোগীকেই সে কী করতে চায় তা স্থির করতে এবং তারপরে সেই ব্যক্তিটিকে সেই সিদ্ধান্তগুলি অনুসরণে উৎসাহিত করা ভাল।”

বাস্তব শর্তাবলীতে, এটি কার্যকরী তালিকা পূরণে সাথে একসঙ্গে কাজ করা এবং স্বাস্থ্যকর ড্যেট বানাতে খাবারের উপাদানগুলি একসঙ্গে কেনাকাটা করার এক  নতুন অর্থ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্মিতা তার স্বামীকে প্রতিদিনের হাঁটার সময়ে নিজেও যোগদান করে দেখেছিলেন যে, নিয়মিত ব্যায়াম রুটিনের ডাক্তারের পরামর্শগুলি তার স্বামী আরও ভালোভাবে অনুসরণ করেছেন।

প্রিয়জন যদি এই হস্তক্ষেপের জন্য খুব উপযুক্ত ব্যক্তি না হন, তবে পিছনে হঠুন এবং রোগী যতটা সহায়তা চান ততোটাই মেনে নিন এবং তাই-ই করুন।

সংবেদনশীল হোন:

শুধু ডায়াবেটিসযুক্ত মানুষদের স্বাস্থ্যকর খাবার অনুসরণ করতেই হবে তার মেনে এই নয় যে, তারা খুশি হয়েই এটা করতে চান। এবং আপনাকে এ ব্যাপারে সংবেদনশীল হতে হবে যাতে আপনি তাদের জন্য এটি আরও কঠিন করে তুলতে না পারেন। আপনার একটি আইসক্রিম খেতে ইচ্ছে করা বা যে পনীর বাটার মসালা বানিয়ে খেতে ইচ্ছে করলে খান, কিন্তু আপনি কি সত্যিই আপনার প্রিয়জনের সামনেই এটা করতে করতে চান? সেইটা না করলেই তো হয়।

আপনি যদি প্রচুর খাওয়াদাওয়া হবে এমন কোনো একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যান, তবে সেখানে সবার কাছে আপনার প্রিয়জনের যে সদ্য ডায়াবেটিক অবস্থা ধরা পড়েছে এটা সম্প্রচার করার তো প্রয়োজন নেই। এমনকী তাতে তিনি হয়তো কখনো কখনো সামান্য অস্বাস্থ্যকর খাবার সেদিন খেয়ে ফেললেন তাও মেনে নিন। আপনি যদি ্রোগীর নিজের কাছে নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ অভাবহচ্ছে দেখেন বা এই সম্পর্কে চিন্তিত হন, তবে আপনাকে এই ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানের সঙ্গে আপনার প্রিয়জনের ডায়াবেটিসের সামঞ্জস্য না হওয়া পর্যন্ত এ জাতীয় সামাজিক পরিস্থিতি এড়ানোর পরিকল্পনা করা উচিত।

জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করুন:

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় করা্র পর সেই রোগীর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা আরও স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করে খাওয়ার গেটওয়েও তো হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্মিতা আবিষ্কার করেছিল যে সে এখনও তার স্বামীর প্রিয় খাবার ভাজা করার পরিবর্তে সেঁকেও রান্না করতে পারে। কম ক্যালোরি যুক্ত খাবার খেতে বেশি উচ্চ-ক্যালোরির উপাদানগুলি বদলাতে, আপনার সৃজনশীল রান্নার পদ্ধতি প্রয়োগ করুন আর সুস্বাদু অথচ স্বাস্থ্যকর রান্না করুন, যাতে আপনার প্রিয়জন এত নিয়ম করে ডায়েট অনুসরণ করেও এখনোও সুস্বাদু, আর স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে পারেন।

সম্ভবতঃ আপনি শহরে নতুন খুলেছে এমন সব খাবার রেস্তোরাঁ খুঁজে নিয়ে সেখানে খেতে যেতে পছন্দ করেন। আপনার ডায়াবেটিসের রোগ ধরা পড়েছে বলে এই রকম অনুসন্ধানের আনন্দকে দূরে সরিয়ে দেওয়া মোটেই উচিত নয় – সম্ভবতঃ আপনি যা পরিবর্তন করতে চান তা হল সেই অনুসন্ধানের দিক। এখন থেকে যে সব জায়গায় স্বাস্থ্যকর খাবার পাওয়া যায় বা নতুন স্যালাড বার বা কম ক্যালোরি যুক্ত রান্নার বিশেষজ্ঞ রেস্তোরাঁগুলি নতুন খুলছে, বাইরে খেতে যাওয়ার জন্য কেন এবার থেকে সেইগুলিই অনুসন্ধান করবেন না?(2)

নিয়মিত ব্যায়াম করায় উৎসাহিত করুন:

শরীরের ওজন এবং রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার পাশাপাশি, নিয়মিত ব্যায়াম করেও ডায়াবেটিক সমস্যাজনিত উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রিপোর্ট করা হয়েছে। একটি উপভোগ্য ব্যায়াম রুটিন খুঁজে পেতে আপনার প্রিয়জনকে সাহায্য ও সমর্থন করুন এবং এটি নিয়মিত যাতে অনুসরণ করা হয় সেই ব্যাপারেও তাকে উৎসাহ যোগান। স্মি্তার স্বামী প্রাথমিকভাবে ব্যাডমিন্টন এবং সাইক্লিং-এ সক্রিয় থাকার জন্য পছন্দ করেছিল, কিন্তু এটি তাকে খুব ক্লান্ত করে ফেলেছিল, ফলতঃ সে সেশনগুলি নিয়মিত যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। পরে, তিনি যোগব্যায়াম করতে শুরু করে দেখলেন তার পক্ষে এটা অনেক সহজ এবং সেই থেকে তিনি নিয়মিত যোগ-ব্যায়াম অভ্যাস করছেন। যদি আপনার সখ্যতা আপনার প্রিয়জনকে ব্যায়াম পদ্ধতি ভালোভাবে মেনে চলতে সহায়তা করে তবে আপনিও যোগদান করুন।(3)

জরুরী অবস্থার মোকাবেলা করার জন্য বাস্তব পরিচালন ব্যবস্থা চালু করুন:

ডঃ কাশি বলেছেন যে ডায়াবেটিসের রোগ নির্ণয় করার আগে বা পরে অনেকের প্রচণ্ড উদ্বেগের ফলে হাইপোগ্লাইসেমিক ঘটনার মতো জরুরি অবস্থাকে কেন্দ্র করে আলাদা ভীতি তৈরি হতে পারে। “এই ধরনের পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করার জন্য সহজ ব্যবস্থা করা যেতে পারে – আপনার ব্যাগে সবসময় একটি চকোলেট বার রেখে দিন, আপনার বিছানার পাশে বিস্কুটগুলি রাখুন, আপনার ডাক্তারের, পরিচর্যাকারী এবং এমনকি ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর মোবাইল নম্বরও স্পিড ডায়াল-এ সেট করুন – কোনো জরুরি অবস্থা্র সময় সাহায্যের বিষয়ে আপনার প্রিয়জনের মনকে সহজ ও নিশ্চিন্ত করে তুলতে যা কিছু করা যায় সেগুলিই করুন।”

স্মি্তা এখন আমাদের বলেন, তার স্বামীকে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় করা সম্পর্কে সবচেয়ে কঠিন বিষয়টি স্বীকার করান হয়েছিল যে জীবন আর কখনও আগের মতো একই হবে না। এবং তবুও, তারা একে অপরকে সমর্থন করে কারণ তারা “আলাদা জীবন” বুঝতে মোটেই “অসুখী জীবন” বোঝাতে চায় না। সম্ভবতঃ, এই উপলব্ধিটিই আসলে ডায়াবেটিসের সাথে মোকাবিলা করার গোপন বিষয়।

পাদটীকা:

ব্যাঙ্গালুরুতে রামকৃষ্ণ নার্সিং হোমের পরামর্শদাতা চিকিৎসক হলেন ডাঃ বৎসলা কাশি।

রেফারেন্স:

[1] D.C. Protasiewicz, M-M. Sandu, A.G. Firanescu, E.C. Lacatusu, M.L. Bicu, M. Mota. Data regarding the prevalence and incidence of diabetes mellitus and prediabetes. Rom J Diabetes Nutr Metab Dis.; 2016; 23(1); 095-103; DOI: 10.1515/rjdnmd-2016-0012

[2] A. Abbott. Understanding Diabetes. Diabetic Connect. http://www.diabeticconnect.com/diabetes-information-articles/general/487-5-ways-to-help-your-newly-diagnosed-diabetic-partner

[3] Y. P. S. Balhara and R. Sagar. Correlates of anxiety and depression among patients with type 2 diabetes mellitus. Indian J Endocrinol Metab; 2011; 15 (Suppl 1); S50-S54; DOI: 10.4103/2230-8210.83057

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.