tips-reduce-heart-attack-risk
Reading Time: 2 minutes

হার্ট অ্যাটাক হয়, যখন হার্টের ধমনীর দেওয়ালে কোলেস্টেরল এবং চর্বি জমা হয়ে, ধমনীতে জমাট বাঁধার কারণে হার্টে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয়। ডায়াবেটিস এবং রক্তচাপের মতো আরও বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কারণ রয়েছে, এগুলোও ধমনীতে ব্লকের কারণ হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তোলে। যদিও হার্ট অ্যাটাক প্রানঘাতী হতে পারে, জীবনযাত্রায় সাধারণ পরিবর্তন করে, এর আশংকা রোধ করা যেতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে আপনি নিজের জীবনে 6টি স্বাস্থ্যকর পরিবর্তন করতে পারেন। 

1. স্বাস্থ্যকর ডায়েট অনুসরণ করা:

ডাঃ সন্দীপ মিশ্র এআইএমএসের কার্ডিওলজিস্ট বলেন, “স্বাস্থ্যকর ডায়েট যেখানে প্রচুর পরিমাণে ফল, শাকসব্জী, বাদাম, ডাল, স্বল্প-চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য, পুরো শস্য এবং মাছ অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং যা প্রক্রিয়াজাত, পরিশোধিত এবং জাংক ফুডের বিপরীতে”। এই প্যাকেটজাত খাবার গুলোতে থাকে হাই সুগার, চর্বি, লবণ এবং সংরক্ষণকারী উপাদান, যা স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি তৈরী করে এবং ফলস্বরূপ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।  

2. ব্যায়াম:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস উন্নত রাখতে, প্রতিদিন কমপক্ষে 30 মিনিটের শরীরচর্চার পরামর্শ দেয়। হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো হতে পারে সাধারণ কিছু অনুশীলন যা অত্যন্ত উপকারী হতে পারে আপনার সার্কুলেশন এবং হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত রাখার জন্য।

3. ধুমপান ত্যাগ করা:

সকল প্রকার তামাক, সিগারেট, সিগার বা চিবিয়ে খাওয়ার জন্যেই হোক, তা সকল রূপেই বিপজ্জনক। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি 50% হ্রাসের হয়েছে। সুতরাং, ধূমপান ত্যাগ করা আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অর্ধেকে কমিয়ে আনতে পারে।

4. অ্যালকোহল পান সীমিত করুন:

অতিরিক্ত যে কোনও কিছু স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ এবং যখন অ্যালকোহলের কথা আসে তখন এটি আরও বেশী বাস্তব। মনে রাখবেন, অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে সংযমই হচ্ছে চাবিকাঠি। গবেষণা বলছে, যারা কম পান করেন তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি 11% হ্রাস পেয়েছে; সুতরাং, আপনার ব্যক্তিগত সীমা কী হওয়া উচিত তা আপনার ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত করুন। 

5. চাপ (স্ট্রেস) সামলান:

প্রতিদিনের ঝামেলা এবং ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ, স্ট্রেসকে হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ করে তুলেছে। স্ট্রেসের সময় নিঃসৃত হরমোন কর্টিসল রক্তে সুগার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে রক্তনালীতে জমাট বাঁধার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ডাঃ মিশ্রা স্ট্রেস লেভেল কম করার জন্য যোগব্যায়াম বা ধ্যানের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি আরও বলেন, “একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার জন্য কাজে-জীবনে ভারসাম্য আনা গুরুত্বপূর্ণ”।

6. আপনার স্বাস্থ্য নিরীক্ষণ করুন:

হার্ট অ্যাটাক রোধ করার জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ কারণ সমূহের নিয়মিত মূল্যায়ন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার জন্যে, আপনাকে অবশ্যই আপনার সুগারের মাত্রা, কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তচাপের লেভেল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। যদি এসবের কোন একটির মাত্রা বৃদ্ধি পায়, তবে জীবনযাত্রার নানারকম পরিবর্তন প্রয়োগ করার পূর্বেই, এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য আপনাকে ঔষধ খেতে হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লুএইচও) হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে ডায়েট, ব্যায়াম এবং তামাক ত্যাগ করাকে, তিনটি মূল বিষয় হিসাবে চিহ্নিত করেছে; তার পাশাপাশি রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং রক্তের সুগার এসবের ঝুঁকির কারণ নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষনকেও গুরুত্ব দিয়েছে। আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিওলজির জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, জীবনযাত্রায় এইসকল পরিবর্তন হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৮০% হ্রাস করতে পারে। 

 

তথ্যসূত্র:

  1. The World Health Organisation (www.who.int)
  2. Nancy K. Sweitzer, MD, PhD. Five Ways to Reduce the risk of heart attack by 80%. Journal of the American College of Cardiology.

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.