weight loss foods to avoid
Reading Time: 3 minutes

আপনার জীবনে খুব ভালো বন্ধু, ভালো বন্ধু এবং চেনাশোনা লোকজন পেয়েছেন। একইভাবে, আপনার ওজন কমানোর ক্ষেত্রে এমন কিছু খাবার আছে যা প্রতিদিন খেতে পারেন, অন্যগুলি সপ্তাহে একবার বা দুইবার রসাস্বাদন করেন এবং কিছু খাবার আছে যেগুলি আপনি কেবল মাসে একবার খান।

আজকে শেষ থাকা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যাক: চেনাশোনা লোকজন অথবা মাসে একবার খান এমন খাবার।

এইসব খাবারগুলির সম্পর্কে জানতে আপনার কৌতুহল থাকবেই। কেন আপনার এইসব খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত সেই সম্পর্কে আমাদের হেলথ কোচ, জয়শ্রী সালিয়ান জানাবেন। আসুন তাহলে শুরু করা যাক:

1. প্রাতঃরাশে শস্যজাত খাদ্য:

দুধ দিয়ে কর্নফ্লেক্স বা হুইট ফ্লেক্স খাওয়া সুবিধাজনক বিকল্প হতে পারে। এর ফলে আপনার গরম প্রাতঃরাশ বানানোর অনেক সময় বাঁচবে। তবে, ওজন কমানোর দিক থেকে, এই ধরনের শস্যজাত খাবার ততটা ভালো নয়। এগুলিতে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকে না, ম্যাজিক নিউট্রিয়েন্ট তৃপ্তি এনে দেয়। ফাইবারের ঘাটতির ফলে বেশি খিদে পায় এবং দিনের পর দিন শর্করাযুক্ত এবং চর্বিযুক্ত খাবারের খিদে বাড়তে থাকে। 

একইভাবে, মিউজলি স্বাস্থ্যকর বাছাই হতে পারে। তবে শর্করা এতে মিশে থাকে, যেমন মাল্টাটোডেক্সট্রিন, হাই ফ্রুকটোজ কর্ন সিরাপ এবং আপেলের রসের নির্যাস।   

তাই, শস্যজাত খাদ্য বাদ দিয়ে পথ্য জাতীয় প্রাতঃরাশ করতে হবে। 

2. বেকারি খাবার:

যদি আপনি বিস্কুট বা কুকিজ দিয়ে চা বা কফি ভালোবাসেন তাহলে এটি আপনার জন্য। চায়ের সঙ্গে খাওয়া যায় এই খাবারে থাকে শর্করা, ফ্যাট, প্রিজারবেটিভ এবং বিশুদ্ধ ময়দা, যা এগুলিকে করে তোলে ক্যালোরি ঘন স্ন্যাক। এই হাই-ফাইবার যুক্ত বিস্কুটও ভালো জিনিস নয়! অতিরিক্ত ফাইবার যুক্ত করতে এতে ফ্যাট যোগ করা হয়, যারফলে এগুলি হয় সুপার হাই ক্যালোরি যুক্ত খাবার। আপনি এইসব বিস্কুটকে স্বাস্থ্যকর ভেবে বেশি বেশি খেয়ে নেন যা একেবারেই ঠিক নয়।

তাই, চা বা কফি খান কিন্তু বিস্কুট ও কুকিজ বাদ দিন।

তেমনই বেকারি আইটেম থেকেও দূরে থাকতে হবে, যেমন পাফস, রাস্ক, ব্রেডস্টিকস, ক্র্যাকারস, ব্রাউনিজ এবং মাফিনস।

3. ভাজা খাবার:

কে সিঙ্গারা, পকোড়া, লুচি বা তেলেভাজা ভালোবাসে না? মুচমুচে ও সুস্বাদু এইসব খাবার আপনার জীভে জল এনে দেবে। তবে, ওজন কমাতে হলে এইসব মুখরোচক খাবার দূরে রাখায় ভালো। ভাজা খাবারে সবথেকে ক্যালোরি ঘন নিউট্রিয়েন্ট ফ্যাট থাকে, প্রতি গ্রামে 9 গ্রাম ক্যালোরি থাকে যা আপনার শরীরের দরকারের থেকে অতিরিক্ত।

সফলভাবে ওজন কমাতে হলে ব্যায়াম করে কমাতে হবে। সেজন্যই, আপনার ভাজাভুজি খাবার কমানো আপনার স্বপ্নের ওজনে পৌঁছতে আপনাকে অনেকটাই সাহায্য করবে।

4. কৃত্রিম মিষ্টি:

ক্যালোরি যুক্ত শর্করার থেকে জিরো-ক্যালোরি, সুগার-ফ্রি খাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ, তাই না? সর্বোপরি, আপনি এই সুস্বাদু মিষ্টিহীন ক্যালরির স্বাদ নিতে এগিয়ে যাবেন। তবে, সংযমী হওয়া দরকার। আসলে, মিষ্টির এইসব বিকল্প ও তাদের ফলাফল যেমন হওয়া উচিত তেমনটি নয়। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, কৃত্রিম মিষ্টি খেলে আপনার ক্ষিদে বেড়ে যেতে পারে, ফলে আপনার খাবার খাওয়া ও ক্যালোরি গ্রহণ বেড়ে যাবে।

গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে যে, এইসব কৃত্রিম মিষ্টি যেহেতু আপনার স্বাদের পরিবর্তন ঘটায় তাই মিষ্টি খাবারগুলির জন্য আপনার আগ্রহ বেড়ে যেতে পারে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যেতে পারে। এছাড়াও, এইসব কৃত্রিম মিষ্টিতে টাইপ 2 ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ এমনকি ক্যান্সার সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকতে পারে।

5. ডেজার্ট:

আইসক্রিম, কালোজাম বা ডোনাটকে কেউই না বলে না। আপনার জীভের স্বাদ মেটাবে ও আপনি খুশী হবেন এমন জিনিস থেকে নিজেকে দূরে রাখা অসম্ভব। শর্করা ও ফ্যাটের সংমিশ্রণ ডেজার্টকে করে তোলে আরও সুস্বাদু। শর্করা আপনার সুগার লেভেলের পরিবর্তন ঘটায়, ফলে ইনস্ট্যান্ট এনার্জির জন্য আপনার শর্করা জাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়। বেশিরভাগ মিষ্টিতে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, যার ফলে ভুড়ি হয়।

 সহজ কথায়, ডেজার্ট খাওয়া মানে ওজন কমানোকে বিদায় জানানো।

6.  ফলের রস:

ফল হলো ভিটামিন, মিনারেলস, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেট সমৃদ্ধ খুব স্বাস্থ্যকর। এতে ক্যালোরিও কম থাকে। যে সমস্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে সেই তালিকায় ফলের রস থাকলে বিভ্রান্তি আসতে পারে। ফল খেতে সময় লাগে ও আমরা চিবিয়ে খাই ও হজম করি। কিন্তু ফলের রস খেলে একসঙ্গে তিন থেকে পাঁচবারের ফল খাওয়ার সমান ক্যালোরি শরীরে যায় ও এতে ফাইবার থাকে না। তরল ক্যালোরি তাড়াতাড়ি হজম হয় ও আপনার ক্ষিদে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, ফলের রস ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়। আপনার অগ্ন্যাশয় প্রচুর পরিমাণে ইনসুলিন নিঃসরণ করে যা অতিরিক্ত সঞ্চালিত সুগারকে ফ্যাটতে রূপান্তর করে।

সোজা কথায়, আপনার প্রতিদিনের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ডোজ নিন এবং ওজন কমান, ফলের রস না খেয়ে ফল চিবিয়ে খান।

7. অ্যালকোহল এবং এরিটেড পানীয়:

একটি ছোট বোতল আপনার ওজন হ্রাস করার যাত্রায় একটি বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। প্রতি গ্রামে সাত ক্যালোরি, অ্যালকোহল পাস্তা, ভাত বা নুডলসের চেয়ে বেশি মেদযুক্ত। তদতিরিক্ত, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে মদ্যপনা করার পরে আপনার ক্ষিদে বেড়ে যায়, সম্ভবত আপনার মস্তিষ্কে বাধা হ্রাসের কারণে। কিছু প্রাণী গবেষণায় এও প্রমাণিত হয়েছে যে অ্যালকোহল মস্তিষ্ককে অনাহার অবস্থা তৈরি করে, যার ফলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতার সৃষ্টি হয়। এমনকি বিয়ার, যেখানে অ্যালকোহলের পরিমাণ কম থাকে, তাতেও স্ট্যান্ডার্ড পানীয়ের চেয়ে বেশি ক্যালোরি থাকে।

অন্যদিকে, এরিটেড পানীয়তে 100 মিলিতে প্রায় 10-12 গ্রাম সুগার থাকে। একেবারে এতে সুগার খাওয়া মানে হলো ওজন বাড়াতে আমন্ত্রণ করা।

সুতরাং, এই ক্যালোরি সমৃদ্ধ খাবারগুলি থেকে নিজেকে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করুন যাতে আপনি আপনার ওজন হ্রাসের যাত্রায় সাবলীলভাবে যাত্রা করতে পারেন।

Loved this article? Don't forget to share it!

Disclaimer: The information provided in this article is for patient awareness only. This has been written by qualified experts and scientifically validated by them. Wellthy or it’s partners/subsidiaries shall not be responsible for the content provided by these experts. This article is not a replacement for a doctor’s advice. Please always check with your doctor before trying anything suggested on this article/website.